শিক্ষায় ছেলেদের ‘পিছিয়ে পড়া’ নিয়ে উদ্বেগ প্রধানমন্ত্রীর

0
21

অনলাইন ডেস্ক-ভোলার আলো.কম,

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ ফলাফল করে স্বর্ণপদক পাওয়া ১৬৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মেয়ে ১০১ জন। ছেলের সংখ্যা কেবল ৬২ কেন, সেই প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ছেলেদেরকেও পড়াশোনায় আরও মনযোগী হতে হবে।

বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের গলায় এই পদক পরিয়ে দেন শেখ হাসিনা। জানান, তাকে বলা হয়েছিল ১২ জন শিক্ষার্থীর গলায় পদক পরাতে। কিন্তু তিনি সবাইকেই পদক দেবেন সিদ্ধান্ত নিয়ে এসেছেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উচ্চশিক্ষায় সংখ্যাগত ও মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ জন্য তার সরকারের আমলে নেয়া নানা উদ্যোগ ও পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

স্বর্ণপদক পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ছেলের সংখ্যা কম থাকাটি ভাবিয়ে তুলছে প্রধানমন্ত্রীকে। বলেন, ‘১৬৩ জন স্বর্ণপদক পেয়েছে। আমি একটু খুশি হয়েছি, আবার চিন্তা করছি এই জন্য যে আমাদের মেয়ে শিক্ষার্থী ১৬৩ জন ১০১ জন। ছেলে শিক্ষার্থী ৬২ জন।’

‘আমি বলব, আমাদের ছেলেদের পড়াশোনায় আরও মনযোগ দিতে হবে। কারণ, আমি চাই তারা সমান সমান থাকুক।’

রক্ষণশীল সমাজে বাংলাদেশে মেয়েদের স্কুলে টেনে আনতেই দীর্ঘ চেষ্টা চালাতে হচ্ছে। ৯০ দশকের শেষ দিকেও টেলিভিশনে মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার অধিকার নিয়ে কার্টুন প্রচার করতে হতো। আর মেয়েদের বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ, উপবৃত্তি, বাল্যবিয়ে রুখতে নানা উদ্যোগে সুফল মিলছে।

এরই মধ্যে মাধ্যমিকে ছাত্রী সংখ্যা ছাত্র সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। এমনকি এই চিত্র মাদ্রাসাতেও। চলতি বছর উচ্চ মাধ্যমিকেও ছাত্র এবং ছাত্রীর সংখ্যার পার্থক্য আগের বছরের চেয়ে অনেক কমে এসেছে। আবার পাস করেছে যত শিক্ষার্থী, তাদের মধ্যে ছেলে আর মেয়ের পার্থক্য কেবল ১০ হাজার।

আবার মেয়েরা ইদানীং পাবলিক পরীক্ষার ফলেও ভালো করছে। ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের ফলাফলও ভালো হচ্ছে।

এবার উচ্চশিক্ষায় সর্বোচ্চ ফলাফলেও এই চিত্র দেখতে পেয়ে গর্বিত প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘মেয়েরা যে এগিয়ে এসেছে, মেয়েরা যে পারছে, সে জন্য আমি সত্যি গর্বিত। কারণ, এক সময় মেয়েরা সত্যি অবহেলিত ছিল।’

‘বাবা-মা মনে করতেন, অভিভাবকরা মনে করতেন, মেয়েদের লেখাপড়া শেখালে কী হবে, কয়দিন পরে বিয়ে দিতে হবে, বিয়ের খরচ আছে। আর লেখাপড়া শেখালেও পরের ঘরে চলে যাবে। এই মানসিকতাটা যে পরিবর্তন হয়েছে, এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় কথা।’

কিন্তু ছেলেদের নিয়ে এখন দুর্ভাবনায় শেখ হাসিনা। বলেন, ‘ছেলেরা পিছিয়ে কেন থাকবে? ছেলেদেরকে আরেকটু পড়াশোনায় মনযোগী হওয়ার জন্য আমি আহ্বান জানাচ্ছি।’

‘তাদের মেধা বিকাশ করার সুযোগ আমি দিয়েছি। সেটা তাদের কাজে লাগাতে হবে।’

‘আমাদের কোনো ছেলেমেয়ে মেধাশূন্য না। আমাদের প্রত্যেকটা ছেলেমেয়ে মেধাবী। শুধু একটু সুযোগ করে দেয়া মেধা বিকাশের। আর সে সুযোগটা করে দেয়াই আমাদের দায়িত্ব।’

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উচ্চ শিক্ষা বিকাশে সরকারের নেয়া নানা উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। জানান, মাত্র ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৪৯টি। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ৪৬টি।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল ইসলামী আরবি, টেক্সটাইল, মেরিটাইম, ভেটেরিরানি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স ফ্যাশন ডিজাইন প্রভৃতি বিশ্ববিদ্যালয় করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাতে করে কর্মক্ষেত্রে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়, সে বিষয়টায় বিশেষভাবে দৃষ্টি দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’

‘প্রায় প্রতিটি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় কিন্তু আমরা বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলছি। যাতে করে ঘরে বসে আমাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শিখতে পারে, সেজন্য আমরা কাজ করছি।’

‘দেশের প্রথম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করেছি প্রথমবার যখন ক্ষমতায় এসেছি। এরপর আরও দুটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে করে দিয়েছি, সিলেটেও একটা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করে দেব। প্রতিটি বিভাগেই একটা করে করে দেব।’

শিক্ষিত জাতি গড়ে তোলার একটাই উদ্দেশ্য।

‘বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। নতুন নতুন চিন্তাভাবনা এসেছে, নতুন নতুন বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা আজকে গ্রহণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকবে না, এটা আমাদের লক্ষ্য।’

বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার এখন প্রায় ৭৩ শতাংশ জানিয়ে একে শতভাগে উন্নীত করার প্রত্যয়ের কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নে নেয়া নানা উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। জানান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সামলাতে পারবে না বলে তারা উচ্চশিক্ষা কমিশন করতে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে এই আইনে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এটি পাস করার জন্য সংসদে তোলা হবে।

(হামিদুর রহমান, ২৫জুলাই-২০১৮ই)

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here