তারেককে শাস্তি দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে: কাদের

0
6

ডেস্ক: অনলাইন,

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে তার শাস্তি নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বলেছেন, তার শাস্তি কার্যকরের মধ্যদিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হলেও বিএনপি নেতার সর্বোচ্চ সাজার আকাঙ্ক্ষার কথাও জানান আওয়ামী লীগ নেতা।

শনিবার সকালে বনানী কবরস্থানে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত আইভি রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

নৃশংস ওই হামলার তিন দিন পর ২৪ আগস্ট সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা যান সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী।

১৫ বছর আগে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের জনসভায় ট্রাকে থাকা শেখ হাসিনাকে ঘিরে গ্রেনেড হামলার সময় কর্মীদের সঙ্গে ট্রাকের সামনের রাস্তায় বসেছিলেন আইভি। স্প্লিন্টারের আঘাতে তার দুটি পা ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমান রক্তাক্ত হয়েছিলেন। আমার মনে হয়, এরপরেও যদি তাকে সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া যেত, তিনি বেঁচে যেতেন। কিন্তু অসহযোগিতার কারণে তার সঠিক সময়ে চিকিৎসা দেওয়া যায়নি।’

‘একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় দিয়েছে আদালত। এখন ডেথ রেফারেন্সের শুনানি হবে। এই হামলার যে মাস্টারমাইন্ড (তারেক রহমান) তার সর্বোচ্চ শাস্তির উচ্চ আদালতে আপিল করব। আমাদের ইচ্ছে, জনগণের ইচ্ছে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার যে মাস্টারমাইন্ড তার সর্বোচ্চ শাস্তি হোক।’

গত ১০ অক্টোবর বিচারিক আদালত থেকে দেওয়া রায়ে ১৯ জনের ফাঁসির আদেশ এসেছে। আর যুক্তরাজ্যে অবস্থানকারী তারেক রহমানের সাজা হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। যদিও রাষ্ট্রপক্ষ এই সাজায় সন্তুষ্ট নয়। তারা ফাঁসি চেয়ে আপিল করবে বলে জানানো হয়েছে।

তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি এই হামলা পরিকল্পনায় জড়িত। ফাঁসি কার্যকর হওয়া জঙ্গি নেতা মুফতি আবদুল হান্নান তার জবানবন্দিতে এই বিষয়টি জানিয়েছেন। বলেছেন, একাধিক বৈঠকে তারেক রহমান তাদেরকে বলেছেন, হামলায় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

আরো দুটি মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড হওয়া তারেক রহমানকে যুক্তরাজ্য থেকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে চেষ্টা করছে সরকার। তবে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।

কাদের বলেন, ‘তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইন মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এ ব্যাপারে সরকারের উদ্যোগ রয়েছে।’

‘তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনতে যে বাধা সেটা আমাদের অতিক্রম করতে হবে। আমাদের রাজনৈতিক পথ কখনই মসৃন ছিল না। আমরা সকল বাধা অতিক্রম করেই আজ এখানে এসেছি। এ ঘটনার যে মাস্টারমাইন্ড তার শাস্তি নিশ্চিত করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।’

আইভি রহমানেরও স্মরণ করেন আওয়ামী লীগ নেতা। বলেন, ‘বাংলার মানুষের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অসাধারণ নেত্রী আইভি রহমান। তিনি এভাবে চলে যাবেন আমরা কখনো ভাবিনি। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে আধুনিকতম নারী নেত্রী। যাকে কখনো আমরা সভা মঞ্চে দেখতাম না। সব সময় তার নারী সহকর্মীদের নিয়ে মঞ্চের নিচে বসতেন। সেদিনও তিনি সভা শেষে মহিলাদের নিয়ে মিছিলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।’

‘২১ আগস্ট আইভী রহমান গ্রেনেড হামলায় রক্তাক্ত হয়েছিলেন। কিবরিয়া সাহেবকে বিলম্বিত চিকিৎসার জন্য জীবন দিয়ে হয়েছিল, সময়তো চিকিৎসা পেলে হয়তো তিনি বেঁচে যেতেন। তেমনিভাবে সেদিন যদি আইভী রহমানও সঠিক চিকিৎসা পেতেন, তাহলে তিনিও বেঁচে যেতেন হয়ত।

এইচআর/২৪আগস্ট

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here