‘গায়েবি’ মামলার ‘গায়েবি’ আসামি

0
18

অনলাইন ডেস্ক:

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি নাশকতার মামলা নিয়ে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। ওই মামলায় পুলিশ অভিযোগ করেছে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা বোমা, অস্ত্র ও লাঠিসহ নাশকতার উদ্দেশ্যে জড়ো হয়ে পুলিশের কাজে বাধা দেয়। মামলায় যাদের নাম এসেছে তাদের মধ্যে একজনের নাম ঠিকানার মিল রয়েছে টঙ্গী থানা ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদী হোসেন কানন মোল্লার সঙ্গে।

পুলিশ বলছে মামলায় উল্লেখিত ব্যক্তি ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হোসেন নন, অন্য কেউ। তবে কে সেই অন্য কেউ সেটিও বলতে পারছে না পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক ও মামলার বাদী এসআই নজমুল হুদার কথার মধ্যে ‘অসামঞ্জস্যতা’ রয়েছে।

৬ অক্টোবর (শনিবার) দুপুরে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরা নাশকতার উদ্দেশ্যে জড়ো হন পুলিশের কাজে বাধা দেন বলে ওই মামলা করে পুলিশ।

এদিকে বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা বলছেন, ওই দিন তাদের কোনো নেতাকর্মী রাস্তায় নামেনি। পুলিশ গায়েবি মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করছে।

পুলিশ বলছে, ৬ অক্টোবর দুপুরে বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের স্থানীয় কলেজগেট এলাকায় খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালে নাশকতার করতে লাঠিসোঠা, ইট-পাটকেল, ককটেল বোমা, পেট্রলবোমা ও অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অপরাধমূলক বল প্রয়োগ, পুলিশের কাজে বাধাদান ও আহত করে। এ ঘটনায় ৫১জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৫০-৬০ জনকে আসামি করে টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি মামলা করেন এসআই মো. নজমুল হুদা। মামলা নং-০৫।

মামলার আসামিরা হলেন- গাজীপুর মহানগর যুবদলের সভাপতি প্রভাষক বশির উদ্দিন, সাবেক জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সরাফত হোসেন, টঙ্গী থানা বিএনপি নেতা শুক্কুর আলী, জিএস স্বপন, স্বেচ্ছাসেবকদলের মহানগর সভাপতি আরিফ হাওলাদার, বেলাল খান, আমিনুর রহমান মধু মো. শরিফ মিয়া, মো. জসীম উদ্দিন, কাজী আবু তাহের, কাজী শাহিন, মো. মনির হোসেন ওরফে মনিরুজ্জামান, টঙ্গী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হোসেন কানন মোল্লা, মো. আল আমিন, জুয়েল মিয়া, বিএনপির সাবেক কাউন্সিলর শেখ মোহাম্মদ আলেক, সানতার আলী, শাহ মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, ইউনুস, সিদ্দিকুর রহমান বিএ, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. ইব্রাহিম মিয়া, খোকন, রিয়াজ উদ্দিন, সামসুল আরেফিন, ইমরান, মো. শাকিব শাহরিয়ার সোহাগমিয়া, শেখ মো. হারুন-অর-রশিদ, সেলিম হোসেন, টিপু, সোহেল, সোহেল-২, গিট্টু সফি, আবু সাকের, হাজী মুজিবুল হক দুলাল, সাইফুল খান, আব্দুস সাত্তার চৌধুরী, মো. মহিউদ্দিন, মো. এমাম, ইয়াকুব আলী, রব্বানী, মো. নুরে আলম দুলাল,আব্দুল হাই, লোকমান হোসেন, আতিকুর রহমান আতিক, শিপন খান, আলিম, ইব্রাহিম, আলম সরকার, লিটন ও শহিদ লস্কর।

এছাড়াও ৬ অক্টোবর টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি নাশকতার মামলা (নং-১২) দায়ের করা হয়। যেখানে গ্রেপ্তারকৃত ৬ জনসহ শ্রমিকদলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি সালাহ উদ্দিন সরকার, নাজিম উদ্দিন সরকার ও সাহাজ উদ্দিনকে পলাতক আসামি দেখানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে টঙ্গী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হোসেন কানন মোল্লা ঢাকাটাইমসকে বলেন, আজীবন ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে ওৎপ্রোতোভাবে জড়িত। শুধু আমি নই, আমার পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমার বাবা গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫১ নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর। খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি ও আসন্ন সংসদ নির্বাচন বানচাল করতে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আন্দোলন করে পুলিশের কাজে বাধাপ্রদান করেছি-এমন আজগুবি কল্পকাহিনী বিশ্বাস করা যায় কিনা প্রশ্ন রাখেন তিনি। বলেন, এসআই নজমুল হুদা এমন একটি মামলায় আমার নাম সম্পৃক্ত করে অজ্ঞতা ও দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. মাহাবুবুল আলম শুক্কুর বলেন, শনিবার বিএনপি-জামায়াতের কোনো নেতাকর্মী কলেজগেট এলাকায় যায়নি। জীবনে একদিনও বিএনপির মিটিং মিছিলে যায়নি এমন নিরীহ ও খেটে খাওয়া মানুষের নামে পুলিশ সম্পূর্ণ মিথ্যা, সাজানো ও গায়েবি মামলাও দিয়েছে। এমনকি ওই মামলায় থানা ছাত্রলীগ নেতার নামও দেয়া হয়েছে। যা উদ্ভট ও জনমনে হাস্যরসের খোরাক জুগিয়েছে।

তিনি বলেন, নাশকতার অপর একটি মামলায় শ্রমিকদল কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সভাপতি সালাহউদ্দিন সরকার, নাজিম উদ্দিন সরকার ও সাহাজ উদ্দিন (পিতা-অজ্ঞাত) পলাতক আসামি করা হয়েছে। মামলায় উল্লেখিত সাহাজ উদ্দিন যদি সাহাজ উদ্দিন সরকার হন তবে তিনি গত ১৯৯৩ সালেই মারা গেছেন।

একই কথা বলেন গাজীপুর মহানগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আফজাল হোসাইনও। গত শনিবার কলেজগেট এলাকায় নাশকতা তো দূরে থাক, বিএনপি-জামায়াতের কোনো নেতাকর্মীই রাস্তায় নামেনি বলে জানান তিনি। বলেন, আর বিএনপি নেত্রীর মুক্তির দাবিতে থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাশকতা করতে রাস্তায় নেমেছে একথা কেউ বিশ্বাস করবে? এতেই প্রমাণিত হয় পুলিশ এখন নাশকতার অভিযোগে যেসব মামলা করছে তা শুধু হয়রানিমূলক ও গায়েবি মামলা।

যোগাযোগ করা হলে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক বলেন, মামলায় যে মেহেদী হোসেন কানন মোল্লার নাম এসেছে তিনি টঙ্গী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নন। এটা অন্যজন।

অপর এক প্রশ্নে ছাত্রলীগ নেতা কানন মোল্লার বাবা- মায়ের নাম ও ঠিকানা মামলায় উল্লেখিত নাম-ঠিকানা একই এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হয়তো ভুলে নামটি চলে গেছে। পরে সংশোধন করে মামলা নেয়া হয়েছে। তবে এসআই নজমুল অবিভক্ত টঙ্গী থানায় অনেক বছর কাজ করেছেন। এছাড়াও তার বাসা কলেজগেট এলাকায়। সে কিভাবে এ ভুলটি করেছে আমি খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি।

মামলার বাদী টঙ্গী পশ্চিম থানার এসআই নজমুল হুদা ছাত্রলীগ নেতাকে মামলায় আসামি করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। বলেন, বিএনপির নাশকতার মামলায় ছাত্রলীগ নেতা কানন মোল্লার নাম আসবে কেন, সে কি বিএনপি করে? মামলার যে কপিটি পেয়েছেন সেটি ভুয়া, এটা তারা কোথা থেকে পেয়েছি তা আমরা জানি না। অনেকের কাছ থেকেই বিষয়টি শুনেছি। পুলিশ কি পাগল হইছে বিএনপি’র নাশকতার মামলায় ছাত্রলীগ নেতাকে আসামি করবে।

(হামিদুর রহমান, ৮অক্টোবর-২০১৮ইং)

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here