আগস্ট নাম শুনলেই কেঁপে উঠে বাংলার বুক, সাংবাদিক আল আমিন তাওহীদ

0
8

বিশেষ প্রতিবেদন,

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়ে এই সোনার বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আত্মদানকারী মুক্তিযোদ্ধারা। সেই মুক্তিযুদ্ধের মহান নেতা এদেশের কৃষক,শ্রমিক, দিন মজুরের প্রিয় বন্ধু বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট, সেই সাথেও হত্যা করা হয়েছে তার পরিবার। কি নির্মম পরিহাস যে ব্যক্তি এদেশের বাঙ্গালীদের অধিকার আদায়ের জন্য কত নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কিন্তু সেই নির্যাতনে তাকে হত্যা করতে পারেনি পাকিস্তানিরা। শেষমেষ তিনি হত্যা হলেন এদেশের মাটিতে জম্ম নেয়া মানুষ নামে অমানুষের হাতে।

সেই ভয়াল ১৫আগস্টের স্মৃতি আজও কাদাঁয় মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী প্রেমিদের অন্তর। শুধু এটা্ দিয়েই শেষ হয়নি ষড়যন্ত্র।  বিদেশে থাকার কারণে তার দুটি কন্যা সন্তান বেচেঁ ছিল, তার মা-বাবার লাশও দেখতে দেয়নি, অাসতে দেয়নি দেশের মাটিতে । কি যন্ত্রণা জম্ম দাতাসহ পরিবার হারানো শোক আর ব্যাথার যন্ত্রনা তাদের দুইবোনের কাছে কত ভয়াবহ হতে পারে। তা সহ্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা।

কু-চক্র মহলের রেখে যাওয়া শরীরকদের স্বজনদের থামেনি একের পর এক ষড়যন্ত্রের নীলনকশা । এ কেমন দেশ এ কেমন মাটি, যারা এমাটিকে ভালোবেসেছিলেন তাদেরকেই হত্যা করা হলো!। ফের শুরু হয় নানা পরিকল্পনা-কথায় আছে, রাখে আল্লাহ মারে কে?। সৃষ্টিকর্তা যদি না নেয়, তাহলে কারো ক্ষমতা নেই দুনিয়া থেকে বিদায় করার।

এরপর ২১ আগস্ট ২০০৪ সাল বিকেলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে সমাবেশে গ্রেনেড হামলা। সেই হামলায় কত মানুষের জীবন চলে গেল, আহত হলো শত শত তবুও মেলেনি দেশের কপালে ১মিনিটের জন্য দোয়া কিংবা  কোন শোকের ছায়া।

সে সময় পুলিশ বাহিনী ছিল নিরব, উল্টো লাঠিচার্জ অাহতদের উপর। হাসপাতালে ডাক্তার নেই, থানায় মামলা নেয়নি, পানি নেই দোকান পাটে, শুধু হাহাকার আর হাহাকার একটু পানি দেন ভাই চিৎকার !!। শত শত আহত মানুষ গুলোকে ফুটবল খেলার মতো লাথি মেরে ছিটিয়ে বিটিয়ে রাখলো, ঝড়ছে অগ্নিঝড়া রক্ত, মাঠ-ঘাট লালে লাল। কাউকে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না পুলিশ, কেউ নেই সাহায্য করার মতো। কে দিবে মুখে পানি ওই সময়ে?। হৃদয় বিদারক কান্না আর জীবনটা মনে হয় বুক ছিড়ে বের হয়ে যাচ্ছে। ঘটনাস্থলেই মারা গেল অনেক মানুষ, আহত হলো শত শত। সেই বেচেঁ থাকা আহতদের অভিশাপে ভাড়ি হচ্ছে হামলাকারীদের জীবন। প্রতিটা নিঃশ্বাসে অার কষ্ট যন্ত্রনায় অাজও হাহাকার। শুধু ক্ষমতার লোভে ভয়াবহ নরকীয় এই হত্যাকান্ড।

এরা কি মুলত দেশপ্রেমিক নাকি দেশের দুশমন ছিল?। ক্ষমতা পাওয়ার জন্য এতো বড় বার বার অপরাধ ঘটনা ঘটলো তারপরও কি তাদের বিবেকে একটি বারও নাড়া দেয়নি কেন মানুষের উপর অত্যাচার, হত্যা করছি ?। রাসুল ( সাঃ) বলেছিলেন, যে দেশ প্রেমিক নয়, সে আমার উম্মত নয়। ধর্মেও বলা আছে যিনি দেশকে ভালোবাসে এবং দেশ প্রেমিক তিনি কখনই খারাপ কাজ করতে পারে না। খারাপ কাজ করেও একবার অনুতপ্ত হলো না  অপরাধীরা। নিষ্ঠুর হত্যায় শিকার পরিবারের সদস্যদের অভিশাপে বিলীন হতে চলছে সেই গোষ্ঠি- কথায় আছে পাপে ছাড়ে না- বাপ কেও।

সেই নির্মম ভয়াল স্মৃতির মাস আগস্ট আসলেই এদেশের মানুষের হৃদয়ে শোকের নাড়া দেয়। চিন্তিত সমাজ আবারও গ্রেনেড বোমা হামলা হয় কি না।এই মাসটি আসলেই জাতি হতাশা প্রকাশ করে কখন কি ঘটে যায়, একবার নয় বার বার পরিকল্পনা। যাদেরকে হত্যা করার জন্য বার বার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তারাও তো ক্ষমতায় এসেছিল বর্তমানে আছে কই একবারও তো কোন হত্যার পরিকল্পনা করলো না। মহান সৃষ্টিকর্তা যখন আপনার উপর গজব নাযিল করবে তখন কোন রেহাই পাবেন না। সৃষ্টিকর্তাই বলেছে কোরআনে, দুনিয়া বসে যে যতটুকু ভাল-মন্দ কাজ করবে তার বিচার আমি আল্লাহ করবো । জীবন দেয়ার মালিক আল্লাহ, আবার নেয়ার মালিকও আল্লাহ। কারো হায়াত থাকলে শত শত গ্রেনেড কিছুই করতে পারবে না।

কম হলেও ২০বারের মতো হত্যার পরিকল্পনা করা হলেও ব্যর্থ হয় বার বার হত্যাকারীরা। কারন আল্লাহর রহমত থাকলে কিছুই করা সম্ভব হয় না। সেই জঘন্য কাজ আর ষড়যন্ত্র এদেশের মানুষ আজও ভুলে যায়নি। কু-চক্ররা মহলরা ভুললেও ভুলেনি এদেশের মানুষ। তবে মনে রেখো তোমরা বার বার হত্যা করেও বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলতে পারবে না, পারবে না ফেলতে শেখ হাসিনা নাম অনন্তকাল থাকবে আমাদের এদেশের মাটির সাথে মিশে । বিনম্র শ্রদ্ধা আর দোয়া করি ১৫ ও ২১ আগস্টে নিহত সকল শহীদের প্রতি – সাংবাদিক আল-আমিন এম তাওহীদ।

এইচআর/২৪আগস্ট

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here